দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই উপজেলায় বজ্রপাতে ৫ জন, কিশোরগঞ্জে কলেজ শিক্ষার্থীসহ তিনজন, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ধান কাটতে গিয়ে এক কৃষক, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধান কাটার সময় এক শ্রমিক এবং ময়মনসিংহে কালবৈশাখী ঝড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে।
জেলার নাসিরনগর ও আখাউড়া উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নাসিরনগর উপজেলায় তিনজন ও আখাউড়া উপজেলায় দুজন রয়েছেন।
জানা গেছে, বজ্রপাতের সময় কৃষিকাজ ও মাঠে অবস্থানের সময়ই অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া নাসিরনগরে বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন হামিদা বেগম (৪০) নামের এক নারী। তার কণ্ঠনালি ঝলসে গেছে এবং তিনি বর্তমানে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
নাসিরনগরের হতাহতরা হলেন, চাঁনপুর গ্রামের কৃষি শ্রমিক আব্দুর রাজ্জাক (৩৫), গোকর্ণ গ্রামের বাসিন্দা মো. শামসুল হুদা (৬৫), কচুয়া গ্রামের শিশু জাকিয়া (৭), ভলাকুট ইউনিয়ন দুর্গাপুর গ্রামের হামিদা বেগম (৪০),
আখাউড়ায় নিহতরা হলেন, রুটি গ্রামের কৃষক সেলিম মিয়া (৬০) ও বনগজ গ্রামের যুবক জাকির খাঁ (২২)।
ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলায় বজ্রপাতে এক কলেজ শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ভৈরবের সাদেকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মৃত আফসার উদ্দিনের ছেলে ফারুক মিয়া (৬০), শ্রীনগর ইউনিয়নের ইউনুস মিয়ার ছেলে ফয়সাল মিয়া (২৮) ও কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের হাজারী নগর গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী সফু মিয়ার ছেলে কবির হোসেন (১৭)। তিনি ভৈরবের হাজী আসমত কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ছাড়া আহত হয়েছেন হোসেনপুর উপজেলার আড়াইবাড়িয়া গ্রামের আবু বকর (৬০)।
জানা যায়, নিহত ফারুক মিয়া বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাওরে জমিতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন এ ছাড়া ফয়সাল মিয়া বাড়ির পাশের জমিতে ধানের খড় আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন। অপরদিকে কবির হোসেন জমিতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন।
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীতে জমিতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন খবির উদ্দিন (৪৫) নামে এক কৃষিশ্রমিক। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরেক শ্রমিক সকুল (২০)। সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার আন্ধারুপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত খবির উদ্দিন ও আহত সকুল দুজনেই একই উপজেলার উত্তর কাপাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, খবির উদ্দিন, সজমুল মিয়া এবং আরও কয়েকজন শ্রমিক মজুরির বিনিময়ে আন্ধারুপাড়ার কৃষক সারোয়ার হোসেনের বোরো ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে খোলা মাঠেই বজ্রপাতে খবির উদ্দিন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং সকুল আহত হন। পরে তাদের নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক খবির উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সকুল প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা-বুলপুরে বজ্রপাতে আব্দুল কাইয়ুম (৫৫) নামে একজন ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কাইয়ুম নয়াগোলা-সাতনইল মহল্লার মৃত্যু সাইফুউদ্দিনের ছেলে।
ময়মনসিংহে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে নিহত বেড়ে ২ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার (১১ মে) বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মরাকুড়ি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, স্থানীয় ছনকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মজি মিয়ার ছেলে মো. সজীব (২৩) এবং পার্শ্ববর্তী চর ঘাগড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আফছর আলীর ছেলে মো. সুরুজ মিয়া (৬০)।
Editor’s Panel/Disha


