একজন মুসলিম পুরুষ তার ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী একাধিক (সর্বোচ্চ ৪টি) বিয়ে করতে পারেন বলে সম্প্রতি ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছে। তবে শর্ত হলো তিনি সব স্ত্রীকে সমান মর্যাদা ও ন্যায্যতা দেবেন। বিচারপতি অরুণ কুমার সিং দেশওয়াল একটি মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ওই দেশের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
আদালত আরও বলেছে, পবিত্র কুরআনে নির্দিষ্ট কারণে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে অনেক পুরুষই একে নিজস্ব স্বার্থে অপব্যবহার করেন। অতএব তিনি সকলের সাথে সমান আচরণ করলে ও ন্যায্য অধিকার দিলেই একাধিক বিয়ে করতে পারবেন। আদালত আগামী ২৬ মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

- – মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বৈধ বিয়েতে বর-কনের হাতের স্পর্শ। ছবি: প্রতিকী।
বিচারপতি দেশওয়াল বলেন, ‘শরিয়ত অ্যাক্ট-১৯৩৭’ এর আলোকে মুসলিম ব্যক্তির বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিচার করা উচিত। পাশাপাশি তিনি ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) চালুর পক্ষেও মত দেন-যাতে সব ধর্মে বিয়ের নিয়ম একই করা যায়।
আদালত ১৮ পৃষ্ঠার অভিমতে উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্ত ফুরকানের দ্বিতীয় বিয়েটি বৈধ, কারণ উভয় স্ত্রী মুসলিম ধর্মাবলম্বী। আর তাই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় এই মামলা প্রযোজ্য নয়।
আসামী পক্ষের আইনজীবী বলেছেন, ওই নারী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তার ভিত্তিতেই বিয়ে হয়েছে। এ কারণে বিষয়টি জালিয়াতি বা গোপন বিয়ে হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা নয়। তিনি বলেন, বিবাদী তার আগের বিয়ের বিষয়টি গোপন করলেও একাধিক বিয়ে মুসলিম ধর্ম অনুযায়ী বৈধ হওয়ায়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারার (একাধিক স্ত্রী থাকা অবস্থায় পুনরায় বিবাহ) অধীনে তার বিরুদ্ধে এই অপরাধের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়।
এনডিটিভি বলেছে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের সেই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম-ফুরকান। তিনি মোরাদাবাদের একটি আদালতের চার্জশিট, সমন এবং বিচার শুরুর আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেছিলেন। ঘটনাটি ২০২০ সালের। অভিযোগে বলা হয়, ফুরকান এক নারীকে বিয়ে করেন তার পূর্বের বিবাহের তথ্য গোপন রেখে। ওই নারী দাবি করেন, বিয়ের পর তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে মোরাদাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের হয় এবং ফুরকানসহ ৩ জনের নামে সমন জারি করা হয়।
Editor’s Pane/Habib


