বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের কাছে ‘রিয়াজুল জান্নাহ’ পৃথিবীর অন্যতম একটি পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। আরবি ভাষায় শব্দ দুটির অর্থ জান্নাতের বাগান। মূলত; রাসুলুল্লাহ (সা.) এর রওজা মোবারক এবং মসজিদে নববীর মিম্বারের মাঝখানের অংশকেই ‘রিয়াজুল জান্নাহ’ বলা হয়। মদীনায় মসজিদে নববীর অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানের অবস্থান।
রিয়াজুল জান্নাত জেনে নেয়া যাক পবিত্র এই স্থান সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- (১) ‘রিয়াজুল জান্নাহ’র ইতিহাস ও গুরুত্ব: হিজরতের পরে প্রথম দিকে মহানবী (সা.) মদিনায় খোলা আকাশের নিচে একটি গাছের নিচে নামাজ আদায় করতেন। পরবর্তীতে খেজুরপাতা ও কাঠ দিয়ে একটি সাধারণ কাঠামো তৈরি করা হয়। যেখানে তিনি দৈনিক নামাজ শেষে ইসলামের দাওয়াত দিতেন।
কালের পরিক্রমায় এই স্থানটি রওজাতুন নবী নামে পরিচিতি পায়। বিভিন্ন শাসক ও খলিফাদের আমলে একাধিকবার সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই মসজিদের আয়তন বৃদ্ধি পায়। তৎকালীন সেই খেজুরপাতার সাধারণ স্থানটি আজকের সুবিশাল মসজিদে নববী। সবুজ গালিচা ও পুষ্পশোভিত সাজসজ্জার জন্যও রিয়াজুল জান্নাত সুপরিচিত। এ ছাড়াও মনে করা হয় যে এর গালিচার সবুজ রঙ জান্নাতের প্রতীক এবং ফুলগুলো জান্নাতের বাগানের সৌন্দর্য প্রকাশ করছে।
(২) মুসলমানদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ স্থান: হাদিস শরিফে ‘রিয়াজুল জান্নাহ’কে জান্নাতের একটি বাগান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ মুসলিম এখানে নামাজ আদায়ের পর বসে কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে দোয়া করেন।
(৩) হাদিসের বর্ণনায় ‘রিয়াজুল জান্নাহ’: হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার ঘর এবং আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান এবং আমার মিম্বারটি আমার কাউসারের ওপর অবস্থিত। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)। এই পবিত্র স্থানে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য এবং আত্মশুদ্ধি লাভ করা হয়। একই সাথে ‘রিয়াজুল জান্নাহ’র স্থানে বেশি বেশি জিকির ও দোয়ায় মগ্ন থাকা উত্তম।
(৪) পৃথিবীতে জান্নাতের অংশ: পৃথিবীতে অবস্থিত জান্নাতের একটি অংশ হল ‘রিয়াজুল জান্নাহ’। মহানবী (সা.) বলেছেন, আমার গৃহ ও মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানগুলোর একটি বাগান এবং আমার মিম্বারটি আমার কাউসারের ওপর অবস্থিত। ‘রিয়াজুল জান্নাহ’তে মোট ৮টি ঐতিহাসিক স্তম্ভ রয়েছে। এই স্তম্ভগুলো ঠিক সেই স্থানে নির্মিত, যেখানে মসজিদে নববীর প্রথম ছাদ ধরে রাখার জন্য খেজুরগাছের কাণ্ড স্থাপন করা হয়েছিল।
৫. ‘রিয়াজুল জান্নাহ’ অংশে ইবাদাতের নিয়ম: এখানে ইবাদাত ও নামাজ আদায়ের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলতে হয়। এতে করে ইবাদত করতে সুবিধা হয়। যেমন: সপ্তাহের সাধারণ দিনগুলোতে ভিড় কম থাকায় জিয়ারত করতে সুবিধা হয়।
‘জিয়াজুল জান্নাহ’ প্রবেশের ৩টি প্রধান গেট আছে। সেগুলো হলো বাব-ই জিবরিল, বাব-ই রহমত এবং বাব-উল বিদা। পুরুষ ও নারীদের নামাজ আদায়ের নির্ধারিত আলাদা সময় আছে। আর এখানে প্রবেশের পূর্বে জুতা খুলে অজু করে নেওয়া আবশ্যক। এরপর ভেতরে প্রবেশের পর কাউকে বিরক্ত না করে নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতে মশগুল থাকা উচিত।


