
dailybanglavoice.com
বিশেষ প্রতিবেদক: বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন দূর্ণীতি ও অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরে রোববার জাতির উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণ দিয়েছেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস। ২৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তিনি এ বক্তৃতা করেন। বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেন, কখন নির্বাচন হবে এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তারা যখন বলবে আমরা চলে যাব। তবে তার আগে এমন কিছু করে যেতে চাই, যাতে করে এ সরকারকে মানুষ মনে রাখে।
প্রায় ৩০ মিনিটের বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হতাহতদের স্মরণ করে তাদের শান্তি কামনা করেন। এছাড়া বর্তমান সময়ে স্মরণকালের বন্যায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এরপর তিনি রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরণের সংস্কার ও আগামী জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করার মাত্র দুই সপ্তাহ শেষ হলো। কর্ম যাত্রার প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে আপনাদের কাছ থেকে যে সমর্থন পাচ্ছি সে জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আমরা অনুধাবন করছি যে আমাদের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা অনেক। এ প্রত্যাশা পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর। যদিও দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রহীনতা, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের জন্য পর্বতসম চ্যালেঞ্জ রেখে গিয়েছে। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আমরা প্রস্তুত। আমি সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করতে আপনাদের সামনে এসেছি। শুধু আমি বলবো আপনাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে।
তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ গঠনের জন্য সকল প্রকার আর্থিক ও অন্যান্য সহযাগিতার জন্য তাদের অনুরোধ জানাচ্ছি। তারা এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের কাছে আমাদের প্রস্তাবসমূহ প্রণয়ন করে দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদেরও অনুরোধ জানিয়েছি তারা যেন পরিস্থিতির কারণে অতি দ্রুত অর্থ ছাড় করার ব্যবস্থা নেন।
ড. ইউনূস বলেন, কখন আমাদের সরকার বিদায় নেবে এর জবাব আপনাদের হাতে। জনগণ এটা নির্ধারণ করবে। আমরা আমাদের দিক থেকে সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেব না। কখন নির্বাচন হবে এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের সংকটকালে ছাত্রদের আহ্বানে আমরা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। একটা বিষয়ে সবাই জানতে আগ্রহী, কখন আমাদের সরকার বিদায় নেবে। এটার জবাব আপনাদের হাতে, কখন আপনারা আমাদেরকে বিদায় দেবেন। আমরা কেউ দেশ শাসনের মানুষ নই। আমাদের নিজ পেশায় আমরা আনন্দ পাই। আমাদের উপদেষ্টামণ্ডলীও এই লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলে একটা টিম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
এ ছাড়াও তিনি, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নপূরণে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে দেশবাসীকে ছাত্র-জনতার স্বপ্নপূরণে সমস্ত শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যহীন, শোষণহীন, কল্যাণময় এবং মুক্ত বাতাসের রাষ্ট্রের যে স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র জনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই স্বপ্নপূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। আপনাদের সবাইকে এই শুভ লগ্নে আদের স্বপ্নপূরণে সমস্ত শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মুহাম্মদ ইউনূস তার ভাষণে বলেন, ছাত্র-জনতার স্বপ্ন আমাদের স্বপ্ন। জাতীয় জীবনে তরুণরা একটি মহা সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশ একটি পরিবারের মত। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার থাকবে পুরোপুরি সুরক্ষিত। আমাদের লক্ষ্য একটিই। উদার, গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে গেলে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়। আর গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে শপথ নেয়ার পর রোববার (২৫ আগস্ট) প্রথমবারের মত জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
———


