
কোটা সংস্কার দাবিতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া ৩৬ দিনের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শেষ দিকে এক দফা-এক দাবিতে স্বৈরশাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। এর মধ্যে ৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন পতিত সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।
পরের দিন রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন। মূলত এভাবে সরকারবিহীন ৩ দিন থাকার পর নানা নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় শপথ নেন নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার।
দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, নানা বিষয়ে সংস্কারব্রত নিয়ে চলা এ সরকারের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে নড়বড় হয়ে ওঠে। আইন শৃঙ্খলার তেমন উন্নতি দেখা যায়নি। মাঠে এখনো সেনাবাহিনী রয়েছে। পরে রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে নির্বাচনের সময়সীমাও ঘোষণা করে।
২০২৪ সালের পাতানো নির্বাচন: ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মহাজোট সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১৪ সালে একতরফা, ২০১৮ সালে রাতের ভোট করে ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ করে আসছে বিরোধী জোট। এমন অভিযোগের মধ্যে ফের একতরফা ভোট করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি মহাজোট ও আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়।
অপরদিকে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের এই সরকারের সময় বিদেশে টাকা পাচার, গুম, খুন, নিপীড়ন, বিচার বিভাগ দলীয়করণ, বৈষম্যসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে।
স্বৈরাচার হাসিনার পতন: এমন অবস্থায় আদালতের রায়ের মাধ্যমে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে সর্বস্তরের জনতা যোগ দেয়। কিন্তু ওই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেপরোয়া গুলি, গণগ্রেপ্তার এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলা ও সংঘর্ষ এক পর্যায়ে সরকার পতনের একদফা দাবিতে রূপ নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট (সোমবার) কারফিউ ভেঙে গণভবন অভিমুখো লাখো মানুষের ঢল নামলে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। কিন্তু তার আগে দেড় সহস্রাধিক শিশু, ছাত্র ও জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হন ৩০ হাজারের মতো মানুষ।
সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি: এক প্রকার সরকার ও আইনশৃঙ্খলাবিহীন অবস্থায় ৬ আগস্ট (মঙ্গলবার) দুপুরে বঙ্গভবন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ নানা ঘটনা ঘটতে থাকে।
দণ্ড থেকে খালাস: এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন নিয়ে নানা দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। ছাত্ররা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অনুরোধ করেন। কিন্তু বিদেশে থাকা ড. ইউনূস প্রথমে রাজি হননি। আর তিনি একটি মামলায় দণ্ড মাথায় নিয়ে ছিলেন। যদিও ৭ আগস্ট (বুধবার) সেই দণ্ড থেকে খালাস পান তিনি।
এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথের আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন বিষয়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামত চেয়ে রেফারেন্স পাঠান। রাষ্ট্রপতির বিশেষ রেফারেন্সের (১/২৪) পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ৭ সদস্যের আপিল বিভাগ গত বছরের ৮ আগস্ট মতামত দেন। ওই সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শোনা হয়।
মতামতে বলা হয়, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা নিযুক্ত করতে পারবেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
শপথ নিতে ফ্রান্স থেকে দেশে ফিরেছিলেন ড. ইউনূস: প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিতে ৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা ১৩ মিনিটে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে ঢাকায় আসেন নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময়ে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন তিন বাহিনীর প্রধান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ‘দেশে আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল করাই আমার প্রথম কাজ’। এরপর এয়ারপোর্ট থেকে গুলশানের নিজ বাসায় যান তিনি। কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে সন্ধ্যায় যান বঙ্গভবনে।
সরকার গঠন: ৮ আগস্ট রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর পরপরই উপদেষ্টা পরিষদের ১৩ সদস্য শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে মুক্তিযুদ্ধের এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের সম্মানে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আর বঙ্গভবনের ফটক থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয় আওয়ামী লীগের সাবেক মিত্র দল বিকল্পধারার নেতা মাহী বি চৌধুরীকে।
অনুষ্ঠানে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক নেতাসহ নানা শ্রেণি-পেশার ৪০০ আমন্ত্রিত অতিথি। শপথ পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন।
অতঃপর ১৩ জন উপদেষ্টা শপথ গ্রহণ করেন। আরো ৩ জন পরবর্তীতে শপথ নিলে উপদেষ্টা পরিষদের আকার ১৬ জনে দাঁড়ায়। এর কিছু দিন পর অবশ্য উপদেষ্টা পরিষদে আবারো যোগ-বিয়োগ হয়েছে।
এডিটরস প্যানেল/নাসির
Advising Editor : -- -- -- -- -- --
Chief Editor : -- -- -- -- -- --
Editor : Bablu Rahman
Executive Editor : Abdur Rahman Khan
---
Corporete Office: Level 9-A,
Confidence Center, Sahjadpur,
Gulshan, Dhaka
---
© Dailybanglavoice.com