
ক্যান্সার রোধে সতর্কতার জন্য স্তনবৃন্তের পরিবর্তন, অস্বাভাবিক নিঃসরণ বা ত্বকে গর্তের মতো দাগকে গুরুত্ব দিতে হবে। হতে পারে এটি স্তনক্যান্সারের প্রাথমিক সতর্কবার্তা। চিকিৎসকরা ব্যাখ্যা করেছেন কেন এই পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কারণ স্তন ক্যান্সার সবসময় ব্যথা বা স্পষ্ট কোনো পিণ্ডের মাধ্যমে ধরা পড়ে না। অনেক সময়, স্তনের ত্বক, স্তনবৃন্ত বা স্তনের আকৃতিতে সূক্ষ্ম কোনো পরিবর্তনই হতে পারে ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ। এই পরিবর্তনগুলো খেয়াল করা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে নারীদের ঠিক কী কী বিষয়ের দিকে নজর রাখা উচিত তা জেনে নিন-
নতুন কোনো পিণ্ড- যা হয়তো ব্যথা করে না: স্তন বা বগলের নিচে নতুন কোনো পিণ্ড দেখা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। এটি আশেপাশের টিস্যু থেকে আলাদা মনে হতে পারে এবং এতে কোনো ব্যথা নাও থাকতে পারে। স্তন ক্যান্সার বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না; তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, স্তন ক্যান্সারের কারণে কোনো নির্দিষ্ট পিণ্ড ছাড়াই স্তনের ত্বক মোটা বা শক্ত হয়ে যেতে পারে।
স্তনের ত্বকের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখুন: স্তনের ত্বকে গর্তের মতো দাগ, কুঁচকে যাওয়া, লালচে ভাব, আঁশ ওঠা বা ত্বক মোটা হয়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তনগুলো দেখা দিলে বিশেষ করে যদি এগুলো নতুন হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে সেগুলোকে সাধারণ ত্বকের সমস্যা বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অনেক সময় স্তনের ত্বক দেখতে অনেকটা কমলার খোসার মতো অমসৃণ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া স্তনের স্বাভাবিক আকার বা আকৃতিতে পরিবর্তন এলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবে এই লক্ষণগুলো থাকলেই যে ক্যান্সার হয়েছে তা নিশ্চিত নয়, তবে এগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত- বিশেষ করে যখন কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এমন পরিবর্তনগুলো ঘটে।
স্তনবৃন্তের পরিবর্তনগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখুন: যদি স্তনবৃন্ত হঠাৎ ভেতরের দিকে ঢুকে যায়, এর অবস্থান পরিবর্তিত হয় বা কোনো অস্বাভাবিক নিঃসরণ দেখা দেয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্তন থেকে যদি বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো তরল, যেমন রক্ত বা স্বচ্ছ কোনো তরল নিঃসরণ হয়, তবে তা অবশ্যই পরীক্ষা করানো জরুরি।
অনেক নারীই এসব পরিবর্তনের দিকে নজর দেন না; কেউ ব্যস্ততার কারণে, কেউ আবার এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন, আবার কেউ হয়তো ভাবেন যে সমস্যাটি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে। লজ্জা বা ব্যস্ততার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
ব্যথা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না: একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, ক্যান্সার গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে অবশ্যই তাতে ব্যথা হতে হবে। স্তন ক্যান্সার কোনো ব্যথা ছাড়াই হতে পারে, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে। ব্যথার জন্য অপেক্ষা করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি হয়ে যেতে পারে।
স্তনে দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক ব্যথা হলে তা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত, যদিও অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার নয় এমন কারণেও স্তনে ব্যথা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্তন ক্যান্সার বিষয়ক তথ্যপত্রে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, স্তনে কোনো অস্বাভাবিক পিণ্ড বা চাকা অনুভূত হলে এমনকী তাতে ব্যথা না থাকলেও নারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মূল কথা হলো আতঙ্কিত হবেন না, তবে কোনো কিছুতেই দেরি করবেন না। স্তনে হওয়া বেশিরভাগ পরিবর্তনই ক্যান্সার নয়।
স্বাভাবিক অবস্থা সম্পর্কে জানুন এবং দ্রুত সহায়তা নিন: নারীদের তাদের স্তনের স্বাভাবিক গঠন ও অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত, পরিবারের কারো স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে তা চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করা প্রয়োজন এবং বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে স্ক্রিনিং বা নিয়মিত পরীক্ষার পরামর্শগুলো মেনে চলা উচিত।
Advising Editor : -- -- -- -- -- --
Chief Editor : -- -- -- -- -- --
Editor : Bablu Rahman
Executive Editor : Abdur Rahman Khan
---
Corporete Office: Level 9-A,
Confidence Center, Sahjadpur,
Gulshan, Dhaka
---
© Dailybanglavoice.com