বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবারের ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’য় সেই আন্দোলনের স্মরণে বিশাল আকৃতির ‘৩৬ জুলাই’ মোটিফ প্রদর্শন করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নেতৃত্বে এ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় ঘুরে টিএসসি মোড়, শহীদ মিনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, দোয়েল চত্বর হয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হয়েছে।
শোভাযাত্রায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের ‘প্রতীকী মোটিফ’ রাখার প্রাথমিক চিন্তা ছিল। তবে পরিবারের অনুরোধে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রশাসন। তবে আবু সাঈদের প্রসারিত দুই হাত না থাকলেও আনন্দ শোভাযাত্রায় স্থান পেয়েছে মুগ্ধের প্রতীকী পানির বোতল।
উল্লেখ্য; ২০২৪ সনের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার মানুষের মৃত্যু এবং ৩০ হাজার আহত হয়। ওই আন্দোলনের বিজয় আসে ৫ আগস্ট। আন্দোলনকারীদের অনেকে ৫ আগস্টকে ৩৬ জুলাই হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৈষম্যের প্রতিবাদে গত বছরের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে ও ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিনারের সামনে অবস্থান নেয়।
২ থেকে ৬ জুলাই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করে। ৭ জুলাই শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’-এর ডাক দেয় যার আওতায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল, মহাসড়ক অবরোধ ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করে। এর ধারাবাহিকতায় আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের নিপীড়ন, নির্যাতন ও হত্যা চালিয়ে যেতে থাকে। সব শেষ ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশ থেকে পালিয়ে যান। সেদিনই জনগণ রাস্তায় নেমে বিজয় উল্লাস করে। অবসান হয় আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে শাসনের।
editors panel/disha


