ঘন কুয়াশার কারণে চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি জাকির সম্রাট-৩ ও বরিশালগামী অ্যাডভেঞ্চার-৯ নামে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। অপরদিকে, সংঘর্ষের কারণ উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে মেঘনা নদীর চাঁদপুরের হাইমচর সীমন্তবর্তী নীলকমল বাংলা বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ২টায় চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম ইকবাল ও সদর ঘাট নৌ থানার ইনচার্জ সোহাগ রানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের নিহতরা হলেন- ভোলা লামোহন উপজেলার কাজিরাবাদ এলাকার সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল গণি (৩৮), একই উপজেলার একই গ্রামের মো. কালু খাঁর ছেলে মো. সাজু (৪৫), কচুখালি গজারিয়া গ্রামের মিলনের স্ত্রী রীনা (৩৫) ও চরফ্যাশন উপজেলার আহিমেদপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে মো. হানিফ (৬০)। অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
অপরদিকে, চাঁদপুরে জেলার হরিনা এলাকায় মেঘনা নদীতে সংঘটিত সম্রাট-৩ ও এডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণ উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ছন্দা পাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য জানান, চাঁদপুরের হাইমচর মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে দুটি লঞ্চের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় ২জন নিহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম ইকবাল বলেন, রাত আনুমানিক পৌঁনে ৩ টার দিকে চাঁদপুর নৌ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল যায়। সেখানে দুর্ঘটনা কবলিত কোনো লঞ্চ পাওয়া যায়নি। লঞ্চগুলো ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে অ্যাডভেঞ্চার-৯ সকালে বরিশাল থেকে ঝালকাঠি গেলে ঝালকাঠিতে জব্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঝালকাঠির সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) বায়জিদ ইবনে আকবর।
হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার ব্যবসায়ী শামীম বলেন, রাত আনুমানিক দুই টার দিকে নদীতে বিকট শব্দ হয়। সকালে নদী পাড়ে গিয়ে কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি।
লঞ্চে থাকা যাত্রীরা জানায়, ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা অভিমুখী এম.ভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি রাত ২টার পর হাইমচর নৌ এলাকা অতিক্রম করছিল। ওই সময়ে ঢাকা থেকে বিএনপির সম্মেলনের যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলো বরিশালগামী এম.ভি অ্যাডভেঞ্চার-৯। এসময় নদীজুড়ে প্রচণ্ড ঘন কুয়াশা থাকায় দিক নির্ণয় করতে না পেরে অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি জাকির সম্রাট-৩ কে সজোরে ধাক্কা দেয়।
যাত্রীরা আরো জানায়, দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এমভি জাকির সম্রাট-৩ যখন মাঝনদীতে ডুবো-ডুবো অবস্থায় ভাসছিল, তখন ভোলা থেকে ঢাকাগামী এম.ভি কর্ণফুলী-৯ নামে অপর একটি লঞ্চ দ্রুত এগিয়ে আসে। তারা অনেক যাত্রীকে উদ্ধার করে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
অপরদিকে, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ছন্দা পাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অদ্য ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে চাঁদপুর জেলার হরিনা এলাকায় মেঘনা নদীতে সংঘটিত সম্রাট-৩ ও এডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণ উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণের নিমিত্ত নিম্নরূপভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।
কমিটিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে-এ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এ.টি.এম. মোর্শেদকে।
আর সদস্য হিসেবে রয়েছেন-যুগ্মসচিব মোহাম্মদ এমরান হোসেন। এ ছাড়াও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি (পরিচালক পদমর্যাদার), বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিনিধি (পরিচালক পদমর্যাদার), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধি ও নৌপুলিশের প্রতিনিধি।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে-(ক) মেঘনা নদীতে সংঘটিত সম্রাট-৩ ও এডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণ উদঘাটন। (খ) দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ। (গ) কমিটি আগামী ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। (ঘ) কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।


