তুরস্কের হালিল দেমির। দেশটির প্রত্যন্ত গ্রামের দারিদ্র্যপীড়িত পরিবেশে বেড়ে ওঠা একজন সফল ও মানবিক মানুষ। আর দারিদ্রের কষাঘাত পেরিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শরণার্থীদের সহায়তা, শিক্ষা বিস্তার এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছেন। অপরদিকে, দারিদ্র্যের অভিজ্ঞতা থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা-দেমিরের এই পথচলায় গুরুত্ব পেয়েছে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। এ ছাড়াও জরুরি সহায়তার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন এবং মানুষের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও তার সমানতালে পথচলা।
২০০১ সালে তার প্রতিষ্ঠিত ‘জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকা’ বর্তমানে বিশ্বের ৫০টি দেশে মানবিক সহায়তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।ইতোমধ্যে প্রতিবছর ২০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা করছেন বাংলাদেশে। স্থানীয় এনজিও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য ৫০ লাখ ডলার সহায়তা প্রদান করছেন। আগামীতে বাংলাদেশের সহায়তায়র পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান এই মানবিক ব্যক্তি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকা সফরের সময় গণমাধ্যমের সাথে এক সাক্ষাৎকারের তিনি এসব কথা বলেন।
হালিল দেমিরের জন্ম তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে। শৈশবেই দারিদ্র্যের বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করেন তিনি। অল্প বয়সে নিজে নিজে পড়তে শেখা দেমিরের জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ তাঁকে সুইজারল্যান্ডে নিয়ে যায়। সেখানে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ও ইতিহাস বিষয়ে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
পাশাপাশি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নির্বাহী শিক্ষা কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। ছয়টি ভাষায় দক্ষ দেমির পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করেছেন। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার কার্যক্রমের মূল ভিত্তি ইসলামের জাকাত ও সাদাকার ধারণা এবং মানবতার সেবার নীতি। দরিদ্র মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।
এর আওতায় খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা, শরণার্থীদের পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ সফর করেছেন দেমির। এসব সফরে তিনি এতিম, বিধবা, শরণার্থী, বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন। তাঁর কাজের অন্যতম লক্ষ্য মানুষের খাদ্য, আশ্রয় ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখা।
দেমিরের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করা উগ্রবাদ মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে জরুরি সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দেয় ‘জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকা’। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দেমির যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত অনুদান, মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কর্মসূচি তদারকি করেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক জটিলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে সংস্থাটির।


