ভারতের হামলায় নিহতদের রক্তের বদলা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। বুধবার (৭ মে) রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি ভারতীয় হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং প্রতিশোধ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে মঙ্গলবার রাতে দেশটির অন্তত ৯টি জায়গার ২৪টি স্থাপনায় হামলা চালায় ভারতের সেনাবাহিনী। মুজাফফারাবাদ ছাড়াও, কোটলি, শিয়ালকোট, মুরদিকে, শাকারঘার, পূর্ব আহমেদপুরে চালানো এসব হামলায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।
হামলার জবাবে ভারতের একটি ব্রিগেড সদর দফতর ও বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়ার দাবি করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের আইএসপিআর’র দাবি, পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ও একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে তারা। এর মধ্যে ৩টি শক্তিশালী রাফাল, একটি এসইউ ৩০, একটি মিগ ২৯ যুদ্ধবিমান। এরইমধ্যে অন্তত একটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফ্রান্সের গোয়ন্দা বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
এমন প্রেক্ষাপটে আজাদ কাশ্মীর ও অন্যান্য জায়গায় ভারতের হামলায় নিহতদের রক্তের বদলা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ভারত পাকিস্তানে হামলা চালিয়ে বড় ভুল করেছে। এই আগ্রাসনের জন্য তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।
সীমান্তে ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সেনারা অসাধারণ দক্ষতা ও সাহসিকতা দেখিয়েছে। ভারত একটি কাপুরুষ শত্রু যে নিরীহ মানুষদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে নিজেকে শক্তিশালী মনে করে। কিন্ত আমরা দেখিয়েছি যে আল্লাহর রহমতে পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষায় উপযুক্ত জবাব দিতে জানে।
এ দিকে ভারতকে সতর্ক করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, পরিস্থিতি যদি আরও উত্তপ্ত হয়, তাহলে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা বাস্তব এবং অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ভারতের ভেতরে বর্তমানে গভীর রাজনৈতিক সংকট চলছে, আর সেই সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতে তারা সীমান্তে আগ্রাসন শুরু করেছে।
দুপক্ষের হামলা পাল্টা হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তুরস্কের গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তবে দুই পক্ষের মধ্যে কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানাননি। এ দিকে, ভারতের হামলার প্রতিবাদে র্যালি হয়েছে ইসলামাবাদ ও করাচিতে। বুধবার রাস্তায় নামেন হাজারো মানুষ। সংহতি জানান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতি। ভারত নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে দাবি তাদের।
Editor’s Panel/Disha


