‘এআই-চালিত পর্যটন, টেকসই গন্তব্য’ এই প্রতিপাদ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী দেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা। রাজধানীর আগারগাঁও চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মেলার উদ্বোধন করা হয়। ‘ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব) এই মেলার আয়োজন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন নাহার চৌধুরী-এনডিসি। এ সময় তিনি বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাত এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বিটিটিএফ-এর মতো একটি প্ল্যাটফর্ম দেশের পর্যটন খাতকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন চর্চাকে উৎসাহিত করতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
‘টিওএবি’ সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘বিটিটিএফ’ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এই মেলা দেশীয় পর্যটনকে বিশ্বদরবারে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও আধুনিক আঙ্গিকে তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করতে এবং নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে“।
অপরদিকে, মেলায় বিশ্বমানের আধুনিক পর্যটন সেবার বিশেষ সুবিধা নিয়ে অংশ নিয়েছে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ছুটি গ্রুপ। মেলা প্রাঙ্গণে মূল হলের দ্বিতীয় তলায় মনকাড়া স্টলে প্রতিষ্ঠানটি সাজিয়েছে ভিন্নধর্মী আয়োজন। গ্রাহকদের জন্য ফেয়ারে হোটেল বুকিং এবং হলিডে প্যাকেজে বিশেষ মেগা ডিসকাউন্টসহ বিভিন্ন উপহারের ব্যবস্থা রেখেছে ছুটি রিসোর্ট।

বৃহস্পতিবার প্রথম দিনেই দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ে এই স্টল ঘিরে। সকাল থেকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এসে ছুটি গ্রুপের বিভিন্ন প্রজেক্ট সর্ম্পকে খোঁজ খবর নেন। স্টলে কর্মরত কোম্পানী সেলস এন্ড মার্কেটিং ডিভিশনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মো. হাসান মইন জানান, মেলায় দর্শনার্থীদের ভালো সাড়া পাচ্ছেন। তিনি আগ্রহীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং যে কোন ট্যুর পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ সেবার আশ্বাস দেন। মেলা চলাকালীন ছুটি গ্রুপের স্টল পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, বর্তমানে ছুটি গ্রুপের অধীনে চালু রয়েছে ছুটি রিসোর্ট গাজীপুর, ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচল, ছুটি রিসোর্ট পুবাইল এবং মৌলভীবাজারের ছুটি ফরেস্ট ঈগল রিসোর্ট। ঢাকার কাছাকাছি সবুজ পরিবেশে অবকাশযাপনের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি প্রতিটি রিসোর্টে পরিবার, বন্ধু ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য রয়েছে ভিন্ন ধরনের আয়োজন। এ ছাড়া আরও কিছু নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। ১৪ বছরের এই পথচলায় ছুটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার গল্প।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতের উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসার এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ জোরদার করাই এই মেলার লক্ষ্য। এবারের আয়োজনে সহযোগী দেশ হিসেবে রয়েছে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল।
অপরদিকে, দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থা, বিলাসবহুল রিসোর্ট ও শীর্ষস্থানীয় ট্যুর এজেন্সিসহ ২০টিরও বেশি দেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার শুরু এই মেলা আগামী ৩১ অক্টোবর (শনিবার) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী; বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান; বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী; বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান; বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কোইনোলেট; পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার; নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি এবং টিওএবি-এর সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ।


